আলোময়.কম হোম,ইসলাম ও বিজ্ঞান, ফিডব্যাক,অংশ নিন fb page

বুধবার, ১ জানুয়ারী, ২০১৪

কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা পর্ব-১; সৌরজগতের বাইরে থেকে লোহা প্রেরণ

 আয়াতঃ চলুন কুরআনের সুরা হাদিদের ২৫ নং আয়াতটি নিয়ে বিশ্লেষণ করি। আল্লাহ বলছেন-
"وَأَنزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ "
অর্থঃ আর লোহা নাযিল করেছি যার মধ্যে বিরাট শক্তি এবং মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ রয়েছে। (সুরা আল হাদিদ, ৫৭; ২৫)
বিশ্লেষণঃএখানে 'আনযালনা' শব্দের অর্থ 'নাযিল করা', বা উপর থেকে পাঠানো। রূপক হিসেবে অর্থ ধরলে মনে হবে আল্লাহ মানুষের কল্যাণের জন্য লোহা দান করেছেন । কিন্তু শব্দটিকে আক্ষরিক অর্থে বিবেচনা করলে অর্থ্যাৎ যেভাবে বৃষ্টি ও বিভিন্ন মহাজাগতিক রশ্মি মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে পাঠানো হয় সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে আয়াতাংশটি বিজ্ঞানের অলৌকিকতায় পরিণত হয়।
সিদ্ধান্তঃ লোহা পৃথিবিতে উৎপন্ন হয়নি বরং অন্য কোথাও থেকে এসেছে।

Iron ingot
প্রমাণঃ আধুনিক মহাকাশবিজ্ঞান বলছে যে পৃথিবীতে প্রাপ্ত লোহা মহাকাশের কোন দানব নক্ষত্র থেকে এসেছে। [২] শুধু পৃথিবীরই নয়, সমগ্র সৌরজগতের লোহাই এসেছে মহাকাশ থেকে। কারণ সূর্যের তাপমাত্রা লৌহ উৎপাদনের  জন্য যথেষ্ট নয়। নাসার ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, সূর্যের মজ্জায় (core) তাপমাত্রা ১৫ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস (১.৫ কোটি)। আর সূর্যের ফটোস্ফিয়ারের (photosphere) এর তাপমাত্রা ৫৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। [১]  সূর্যের তুলনায় অনেক বড় নক্ষত্রেই লৌহ উৎপন্ন হতে পারে যেখানে তাপমাত্রা কয়েকশ মিলিয়ন ডিগ্রিতে পৌঁছাতে পারে। যখন কোন নক্ষত্রে লৌহসহ ভারী ধাতুসমূহের পরিমাণ অত্যাধিক হয়ে যায় তখন নক্ষত্রটি এদেরকে আর ধারণ করতে  পারে না। এক সময় এটি বিষ্ফোরিত হয়। একেই বলে নোভা বা সুপারনোভা (আকার আরো বড় হলে)।[৩]
এ ব্যাপারে একটি বৈজ্ঞানিক সূত্র নিম্ন তথ্য দিচ্ছে-
''গভীর সমুদ্রে লোহার আধিক্যকে ৫০ লাখ বছর আগের ৯০ আলোকবর্ষ দূরের একটি সুপারনোভা বিষ্ফোরণের মাধ্যমে ব্যাক্ষা করা হচ্ছে। Iron-60 হলো লোহার একটি তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ। বর্তমানে ভূতাত্ত্বিক স্তরসমূহে এই আইসোটোপটির প্রাচুর্য্য থেকে বোঝা যায় নিকটবর্তী মহাকাশে মৌলসমূহের কেন্দ্রীয় সংশ্লেষণ ( nucleosynthesis) হয়ে ধুলিকণার অংশ হিসেবে  এরা পৃথিবীতে এসে পড়েছে।'' [৪]
ঘোষণাঃ নিশ্চয়ই ৭ম শতকে এ তথ্য পৃথিবীর মানুষের জানা ছিল না। তাহলে মুহাম্মাদ সা. তা কিভাবে জানলেন? সহজ উত্তর আল্লাহই জানিয়েছেন।
পুনশ্চঃ সুরা আল হাদিদ কুরআনের ৫৭তম সুরা। আরবিতে 'আল হাদিদ' শব্দটির সংখ্যাতাত্বিক মানগুলো যোগ করলে ৫৭ হয়। আর হাদিদ শব্দটির সংখ্যাতাত্বিক মান ২৬ যা আয়রনের পারমাণবিক সংখ্যা।
সোর্সঃ
১. http://solarsystem.nasa.gov/planets/profile.cfm?Object=Sun&Display=OverviewLong
২. http://en.wikipedia.org/wiki/Supernova#Source_of_heavy_elements
৩. http://heasarc.gsfc.nasa.gov/docs/objects/snrs/snrstext.html
৪. https://www.americanscientist.org/issues/issue.aspx?id=862&y=0&no=&content=true&page=7&css=print
৫. http://www.miraclesofthequran.com/scientific_30.html

ইমেইলে গ্রাহক হোন