আলোময়.কম হোম,ইসলাম ও বিজ্ঞান, ফিডব্যাক,অংশ নিন fb page

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০১৫

যুক্তরাজ্যে ইসলামের অগ্রযাত্রাঃ পর্ব-১

এক বিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জকে সফলভাবে মোকাবেলা ও বিশ্বব্যাপী পাহাড়সম বৈরিতা উপেক্ষা করে সারা বিশ্বে ইসলামের জয়রথ ছুটে চলছে। এ যেন আল্লাহর সেই ঘোষণা বাস্তবায়নেরই ইঙ্গিত। (আল -কুর'আনঃ৬১ সুরা সফঃ৯)
তিনি তাঁর রসূলকে পথ নির্দেশ ও সত্য জীবনব্যাবস্থা  নিয়ে প্রেরণ করেছেন, যাতে একে সব জীবনব্যাবস্থা উপর বিজয়ী করে দেন যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে
 যুক্তরাজ্যে কিভাবে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ছে, তা আমরা ধারাবাহিকভাবে সেদেশি কয়েকটি পত্রিকার মাধ্যমেই জানার চেষ্টা করব, ইনশা'আল্লাহ।
নিচে ডেইলিমেইল অনলাইনে প্রকাশিত একটি রিপোর্টের অনুবাদ তুলে ধরা হল। রিপোর্টটি ২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি তারিখের।
যুক্তরাজ্যে এ পর্যন্ত ১ লাখ মানুষ ইসলামে দীক্ষিত হয়েছেন। নওমুসলিমদের গড় বয়স ২৭ বছর, দুই-তৃতিয়াংশের বেশিই মহিলা এবং ৭০ শতাংশের বেশি মানুষই শ্বেতাঙ্গ।
[ এ থেকে বোঝা যাচ্ছে ,নিছক শিশুসুলভ ভাবাবেগ বা বৃদ্ধ হয়ে গিয়ে মরণের ভয়ে মানুষ ইসলামে আসছে এমনটা বলা যাচ্ছে না- অনুবাদক]
শুধুমাত্র গত বছরেই (২০১০) মুসলিম হয়েছেন ৫২০০ জন।  আরো দেখা গেছে, শ্বেতাঙ্গ মহিলাদের মধ্যেই ইসলাম গ্রহণের হার সবচেয়ে বেশি।
অন্য দিকে গত দশ বছরে এই হার দ্বিগুণ হয়েছে। ব্রিটিশদের ভোগবাদ (consumerism ) ও অনৈতিকতার প্রতি বিরক্তির উদ্রেক বিষয়গুলোই ইসলাম গ্রহণের প্রধান নিয়ামক ছিল। Faith Matters নামক ফেইথ গ্রুপের একটি জরিপ থেকে তথ্যগুলো উঠে এসেছে ।
রিপোর্টে বলা হয়, গত বার মাসে প্রায় ৫২০০ নারী ও পুরুষ ইসলাম গ্রহণ করেন, যাদের ১২০০ হচ্ছেন লন্ডনবাসী।
২০০১ সালে ব্রিটেনে নওমুসলিমদের সংখ্যা ছিল ৬০ হাজার।  Swansea University এর কেভিন ব্রাইস পরিচালিত এই জরিপে ব্রিটিশ সংস্কৃতির নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে নওমুসলিমদের মতামত চাওয়া হয়েছিল। তাদের উত্তরে উঠে আসে অ্যালকোহল, মাদকাসক্তি, নৈতিকতার অভাব, অবাধ যৌনতা এবং লাগামহীন ভোগবাদের মতো ব্যাপারগুলো।
প্রতি চার জনে এক জনের বেশির মত ছিল, দেশটিতে বসবাস ও পরিপূর্ণ ইসলাম চর্চার মধ্যে সহজাত বিরোধ (natural conflict) রয়েছে। প্রতি ১০ জন মহিলা নওমুসলিমের মধ্যে ৯ জনই বলেছেন, ইসলাম গ্রহণের পরে তাঁদের পোশাকে আমূল পরিবর্তন এসেছে। অর্ধেকের বেশি মাথায় স্কার্ফ পরছেন আর বোরকা পরছেন ৫ ভাগ নারী।
[উল্লেখ্য, ইসলামিক হিজাব পালনের জন্য বোরকাই পরতে এমন কোন কথা নেই, উপযুক্ত কাপড় পরে বোরকা না পরেও ফরজ পালন করা যায়। তাই মনে করা ঠিক নয় যে নওমুসলিম মহিলারা ধার্মিক নন- অনুবাদক]
গত বছর (২০১০) সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারে শ্যালিকা লরেন বুথ ইসলাম গ্রহণ ও তা ব্যাপকভাবে প্রচার করে মানুষের নজর কাড়েন।
লিনি আলী নামক ৩১ বছর বয়সী একজন নওমুসলিম বলেন, "অন্যান্যদের মতই আমি নিয়মিত পার্টিতে যেতাম। তবু সব সময়ই মনে হত আমার জীবনে কিছু একটার যেন অভাব রয়েছে। মনে হত, আমি কিছু একটা খুঁজে বেড়াচ্ছি। পার্টি করে এবং প্রচুর মদ গিলেও আমি তৃপ্তি পেতাম না।"

এসেক্সের এই মহিলা আগে ডিজে ছিলেন। ১৯ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধু জাহিদের সাথে তার পরিচয়, অতঃপর ইসলাম গ্রহণ। বর্তমানে তিনি নিকাব পরেই বাইরে বের হন।
তিনি বলেন, "আমি কৃতজ্ঞ, আমি আমার মুক্তির পথ পেয়ে গেছি। আমি আমার নিজেকে খুঁজে পেয়েছি। আমি আনন্দের সাথে দিনে পাঁচবার সালাত আদায় করি এবং মসজিদে ক্লাস নেই। আমি এখন আর একটি রুগ্ন সমাজ ও তার এক্সপেকটেশনের দাস নই।"
সূত্রঃ ডেইলিমেইল থেকে অনূদিত

মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৪

পৃথিবীকে বিছানা বলাকি কুর'আনে বৈজ্ঞানিক ভুল?

প্রথমে কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করি।কুর'আনের আয়াত ব্রাউজ করতে ভিজিট করুন tanzil.net
সূরা বাক্বারা (২>২২)
"তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা স্বরূপ বানিয়েছেন..."
সূরা ত্ব-হা (২০>৫৩) এবং সূরা যুখরুফ (৪৩>১০)
"তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে বিছানা বা শয্যা করেছেন"  
অথবা অনুবাদ -"যিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্য বিস্তৃত গালিছারূপে সৃষ্টি করেছেন"
অর্থ্যাৎ পৃথিবীকে গালিচার মত বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কুর'আনের এই বক্তব্যকে বৈজ্ঞানিক সত্যের বিরোধী মনে হয়। কেননা বিজ্ঞান বলে পৃথিবী চ্যাপ্টা বা সমতল নয়, গোলাকার (Spherical)।
ব্যাখ্যাঃ
১. এটাকে ভুল মনে হবার কারণ, মানুষ মনে করে শুধু সমতল বা চ্যাপ্টা তলের উপরই মাদুর বা গালিচা বিছানো যেতে পারে। এটা ঠিক নয়। বর্তমান যুগে এটা খুবই প্রচলিত যে গোলাকার তলের উপরিপৃষ্ঠে খুব সহজেই  গালিচা বিছানো যায়। যেমন ধরুন নিচের গোলকের উপরিভাগে আপনি চাইলে গালিচা বিছিয়ে দিতে পারেন।

কুর'আন কিন্তু বলেনি আমি পৃথিবীকে চ্যাপ্টা করে বানিয়েছি। সেটা হল আমাদের বোঝার ভুল।
তাহলে, এই আয়াতের উদ্দেশ্য কী?
সূরা যুখরুফের ৪৩ নং আয়াত পুরোটা পড়লে জানা যায় -
"যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন বিছানা এবং তাতে তোমাদের জন্যে করেছেন পথ, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার।"
অন্য আয়াতে আছে, "...যাতে তোমরা সহজে চলাফেরা করতে পার"
 ভূতত্ত্ব সম্পর্কে ধারণা থাকলে আমাদের এই আয়াত নিয়ে মোটেই প্রশ্ন উঠবে না।
আমরা জানি, পৃথিবীর উপরিভাগ বা ভূত্বক (Crust) কঠিন হলেও অভ্যন্তর ভাগ উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে।
 পৃথিবীর গঠনকে চারটি স্তরে বিভক্ত করা যায়-
১. Crust বা উপরিভাগ। এটা সম্পূর্ণ কঠিন অবস্থায় আছে।
২. Mantle উপরিভাগ পরবর্তী আবরণ। এ অংশের সান্দ্রতা বেশি।
৩. Outer Core (বহিঃস্থ শাঁস)। এ স্তর তরল যার সান্দ্রতা Mantle এর চেয়ে কম।
৪. Core (অভ্যন্তরভাগ। কেন্দ্রস্থ এই অংশ সম্পূর্ণ কঠিন। 

ভিতরে উত্তপ্ত তরল কঠিনের মিশ্রণকে স্থিতিশীল রাখার জন্য উপরে ভূত্বক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। ভূত্বক না থাকলে পৃথিবী কোন মতেই বাসযোগ্য হত না। যেমন ধরুন উপরে প্রথম চিত্রের গোলকটি যদি শুধু শিক দিয়ে বানানো হয়, কোন আবরণ না দেওয়া হয়, তাহলে এবার পৃথিবীকে  এরকম চিন্তা করুন আর ভাবুন আমাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম তখন চলত কিনা।
২. আমরা জানি কোন গোলক যত বড় হবে তথা এর ব্যাসার্ধ যত বড় হবে এর পৃষ্ঠের বক্রতা তত কম হবে। পৃথিবী একটি বিশাল ক্ষেত্র যার ব্যাস প্রায় ৬৪০০ কি.মি (প্রায় ৪ হাজার মাইল)। আমরা দৈনন্দিন জীবনে পৃথিবীপৃষ্ঠের খুব সামান্য অংশ নিয়ে কাজ করি। এই অংশটুকু বাস্তবে গোলকের অন্তর্গত বক্র চাপ হলেও উপলদ্ধি করার মত নয়। যেমন এক মাইল পরিমাণ দূরত্বেও মাত্র ১ ডিগ্রির মাত্র ৭০ ভাগের এক ভাগ কোণ তৈরি হয়। মাত্র ১ ডিগ্রি পরিমাণ বক্রতা উপলদ্ধি করা যাবে পৃথিবীপৃষ্ঠে ১১২ কি.মি পথ বিবেচনা করলে।
তাহলে, গণিতের ভাষায় যেই ক্ষেত্রের ব্যাসার্ধ অতি বিশাল তার তলকে সমতল বলা চলে।
সূত্রঃ
১. আল কুর'আনে বিজ্ঞান- ইসলামিক ফাউন্ডেশান
২. http://en.wikipedia.org/wiki/Structure_of_the_Earth
৩. http://www.colorado.edu/physics/phys2900/homepages/Marianne.Hogan/inside.html

রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৪

বিবর্তনবাদের আরেক শত্রু; কাংখিত ফসিলের ঘাটতি

ডারউইন নিজেই জানতেন তার প্রস্তাবনাটি সঠিক হতে হলে প্রচুর পরিমাণ অন্তর্বর্তীকালীন আকৃতির ফসিল খুঁজে পেতে হবে। তার Origin of Species বইয়ের থিওরির সমস্যাসমূহ (Difficulties on Theory) অংশে তিনি নিজেই বলেন-
      "প্রথমত, যদি প্রজাতিরা অন্য প্রজাতি থেকে উদ্ভূত হয়ে থাকে তাহলে কেন সর্বত্র আমরা প্রচুর সংখ্যক ট্রাঞ্জিশনাল বা মাঝামাঝি সময়ের আকৃতি (transitional forms) দেখি না? কেন প্রকৃতির সর্বত্র বিশৃঙ্খার পরিবর্তে প্রজাতিসমূহ সুগঠিত আকারে আছে? "
বিবর্তনবাদের মতানুসারে প্রত্যেকটি প্রাণীই কোন একটি পূর্বসূরী থেকে এসেছে। সময়ের সাথে অপেক্ষাকৃত আগের প্রজাতি রূপান্তরিত হয়ে গেছে এবং এভাবেই সব প্রাণী এভাবেই অস্তিত্ত্বে এসেছে। এ রূপান্তর লাখো বছর ধরে চলেছে।
ঘটনা যদি এই হত তাহলে এই রূপান্তরকালীন সময়ে অসংখ্য মধ্যবর্তী প্রজাতির (intermediary species) উপস্থিতি থাকত। যেমন বলা যায় অতীতে কোন অর্ধ-মাছ/অর্ধ সরিসৃপ এর অস্তিত্ব থাকত যা তার মেছো বৈশিষ্ট্যের সাথে সাথে কিছু সরিসৃপীয় বৈশিষ্টও লাভ করত, কিছু সরিসৃপ পাখি থাকত যারা সরিসৃপীয় বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি কিছু খেচর বৈশিষ্ট্যও অর্জন করত। এরকম প্রাণীর অস্তিত্ব থাকলে তাদের বিভিন্ন প্রকারে সংখ্যা হওয়া উচিত কোটি কোটি। আর এ অদ্ভূত প্রাণীদের ফসিল তো অবশ্যই দেখা যাবার কথা।
এই ট্রাঞ্জিশনাল প্রজাতির প্রাণিদের সংখ্যা পৃথিবীর বর্তমানে বিদ্যমান প্রজাতির চেয়ে বেশি হওয়া উচিত। তাদের ফসিল বা মৃতদেহ সব জায়গায় পাওয়া যাওয়ার কথা।
ডারুইন বলেন-
"আমার থিওরি প্রমাণিত হতে হলে অগণিত মাধ্যমিক (Intermediate) প্রকরণ উপস্থিত থাকতে হবে যেগুলো একই জাতীয় সকল প্রজাতির মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করবে। ফলে, তাদের পূর্ববর্তী অস্তিত্বের প্রমাণ শুধু ফসিলের মধ্যেই পাওয়া যেতে পারে।"
তাঁর  থিওরির এই এই অসুবিধা মেনে নিয়ে তিনে বলেন, " এই সমস্যাটি অনেক দিন যাবত আমাকে বিমূঢ় করে রেখেছে।" 
এই অসুবিধা দূর করতে তিনি যে ব্যাখ্যা নিয়ে আসলেন তা হলো ততদিন পর্যন্ত আবিষ্কৃত ফসিলের সংখ্যা ছিল অপ্রতুল। তাঁর মত ছিলো 'পাওয়া যাবে'। 
এই আশ্বাসকে ভিত্তি করে বিবর্তনপন্থীরা উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে পুরো দুনিয়া চষে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু বিধি বাম! ফসিল বরং বলে বিপরীত কথা, জীবনের উদ্ভব ঘটেছে হঠাৎ এবং সম্পূর্ণ সুগঠিত (Well-formed)  অবস্থায়।
Derek V. Ager নামক বিখ্যাত ব্রিটিশ জীবাশ্মবিদ বলেন-
" বর্গ (Order) বা প্রজাতি যে কোন ক্ষেত্রেই ফসিল রেকর্ডের বিস্তারিত বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখি জীবেদের উদ্ভব ক্রমে ক্রমে নয় হঠাৎ ঘটেছে"
এর প্রত্যক্ষ উদাহরণ হল ক্যাম্ব্রিয়ান পিরিয়ড (দেখুন বিস্তারিত)
ডারউইন আরো বলেন-
যদি দেখানো যায় যে কোন জটিল প্রাণী অসংখ্য ধারাবাহিক স্বল্প পরিবর্তন ছাড়াই অস্তিত্বমান ছিল তবে আমার থিওরি ধসে পড়বে। (Darwin, 1859, p. 219)
হারভার্ড ইউনিভারসিটির ভূতত্ত্ব ও জীবাশ্মবিদ্যার অধ্যাপক Stephen Jay Gould বলেন-
" ফসিল প্রজাতির সাথে ডারউইনের ক্রমানুবাদের দুটি অমিল রয়েছে-
                ১.Stasis বা স্থিতাবস্থাঃ বেশিরভাগ প্রজাতিতেই পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্বকালে কোন নির্দিষ্ট পরিবর্তন দেখা যায় না। ফসিল রেকর্ড থেকে দেখা যায় তারা যেভাবে অস্তিত্বে এসেছিল অনেকটা ঠিক সেভাবেই (একই আকৃতিতে) অস্তিত্ব হারিয়েছিল। গাঠনিক পরিবর্তন সীমিত ও এলোমেলো।"
               ২. আকস্মিক আবির্ভাবঃ যে কোন স্থানীয় এলাকায় প্রজাতি তার পূর্ব-পুরুষ থেকে ট্রান্সফরমেশনের দ্বারা আসেনি, এসেছে একবারে পূর্ণ আকারে।

ডারউইনের তত্ত্ব সব প্রজাতিকে একই পূর্ব-পুরুষ থেকে উৎপন্ন দেখাতে চায়। ক্যামব্রিয়ান যুগের শুরুতেই ৫০ থেকে ১০০ প্রজাতির আকস্মিক আবির্ভাব ঘটে। ফসিল রেকর্ড ক্যমব্রিয়ান-পূর্ব যুগে তাদের সাধারণ (Common) আদি পুরুষের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে পারেনি।

http://www.evolutiondeceit.com/
http://www.veritas-ucsb.org/library/battson/stasis/2.html
http://harunyahya.com/en/Articles/2013/The-fossil-record-refutes-evolution

শনিবার, ১২ জুলাই, ২০১৪

মুসা আ. এর ভবিষ্যদ্বানী করা নবী ঈসা আ. ছিলেন না, ছিলেন মুহাম্মাদ সা.

ওল্ড ও নিউ টেস্টামেন্ট দু কিতাবেই হজরত মুহাম্মাদ সা. এর ভবিষ্যদ্বাণী আছে। মূলত বাইবেল দুই অংশে বিভক্ত। ওল্ড টেস্টামেন্ট হলো যেটা মুসা আ. এর প্রতি নাযিল হয়েছিল। আর নিউ টেস্টামেন্ট হল ইঞ্জিল (অবশ্যই যা বর্তমানে বিকৃত)।
উদ্ধৃতিঃ
বুক অভ ডিউটরোনোমিঃ অধ্যায় -১৮, অনুচ্ছেদ-১৮
"আমি তাদের ভাইদের (ইহুদী জাতি) মধ্য থেকেই একজন নবী পাঠাবো যে হবে তোমার মতই (মুসা আ.), আমি তাকে দিয়ে আমার কথা বলাবো এবং আমি যা আদেশ দেবো সে তাই তাদের বলবে। "
খৃষ্টানরা বলে, এই ভবিষ্যদ্বাণী ঈসা আ. এর প্রতি ইঙ্গিত করে। যুক্তি হল, মুসা ও ঈসা (আ.) দু"জনেই ছিলেন জাতিতে ইহুদী, দু' জনেই ছিলেন নবী।
এগুলোই যদি মাপকাঠি হতো তবে, তবে বাইবেলে উল্লেখিত নবীদের মধ্যে যারা মুসা আ. এর পরে এসেছিলেন তাঁরা সবাই এই ভবিষ্যদ্বাণী পূরণ করেছিলেন যেমন সোলাইমান, দাউদ, ইয়াকুব, ইউসুফ আ. প্রমূখ।
বরং মুহাম্মাদ সা. এর সাথেই ঈসা আ. এর চেয়ে মুসা আ. এর বেশি মিল। কারণ-
১. দূ'জনরেই বাবা ছিলেন। কিন্তু ঈসা আ. আল্লাহর অলৌকিকত্বে বাবা ছাড়া জন্ম নেন। (ম্যাথিউ ১;১৮ এবং লুক ১;৩৫); কুর'আন ( আলে ইমরান ৩; ৪২-৪৭)
২. উভয়ে বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁদের সন্তান ছিল। ঈসা আ. বিয়েও করেননি, সন্তানও তাঁর ছলো না
৩. উভয়ে স্বাভাবিকভাবে ইন্তিকাল করেন। বাইবেল ও কুর'আন দুটোই বলে ঈসা আ. এর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন।
৪. নবী হবার পাশাপাশি দুজনেই ছিলেন রাষ্ট্রপ্রধান, দিতে পারতেন মৃত্যুদণ্ডের সাজা। (যীশু )ঈসা আ. বলেন, "আমার রাজত্ব এই পৃথিবীতে নয় ( গসপেল অব জন, ১৮;৩৬)
৫. দু'জনেই জীবদ্দশায়ই নবুওয়াতের স্বীকৃতি ও ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। কিন্তু ঈসা আ. জীবদ্দশায় প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন।
৬. দু'জনেই অনুসারীদের জন্য নতুন আইন ও বিধান এনেছিলেন। ঈসা আ. নতুন কোন বিধান আনেন নি। (ম্যাথিউ ৫ ;১৭-১৮)
বাইবেলে মুহাম্মাদ সা. এর ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে জানতে পড়ুন আগামী পোস্টগুলো এখানে

সোমবার, ৬ জানুয়ারী, ২০১৪

মানব রচিত আইনের দুর্বলতা; উরুগুয়েতে গাঁজা সেবন বৈধ করে আইন

খবরঃ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে গাঁজা চাষ, বিক্রি ও সেবন বৈধ করে একটি আইন পাস করেছে উরুগুয়ের বামপন্থী প্রেসিডেন্ট হোসে মুজিসা সরকার। [১], [২]
মানব রচিত আইন কখনোই মানবের কল্যাণ সাধন করতে পারে না তা আবারো প্রমাণ হলো এই আইনটি পাশের মাধ্যমে।  মূলত, যেকোন যন্ত্র বা ডিভাইস চালানোর জন্য নির্মাতার প্রদত্ত নির্দেশিকাই যথার্থ। আর মানুষ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল যন্ত্র। তাই মানুষের সঠিক ও স্বাভাবিক জীবন পরিচালনার জন্যেও প্রয়োজন স্রষ্টার দেয়া বিধান সবক্ষেত্রে মেনে চলা। মানব রচিত আইন একই সাথে আত্মঘাতী, স্বার্থপরতা ও হিংসার বহিপ্রকাশ, অপূর্নাংগ ও ভারসাম্যহীন।
মানুষ স্বেচ্ছাচারিতা ও সাময়িক আনন্দের লোভে একটি ক্ষতিকর মাদককে বৈধ করে নিল। কারণ মানুষ নিজেই অনেক সময় বোঝে না কিসে তার কল্যাণ।
চলুন দেখি গাঁজার ক্ষতিকর প্রভাব কী কী?
গাঁজার (marijuana) ক্ষতিকর প্রভাবঃগাঁজার তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে দ্রুত হৃদস্পন্দন (rapid heart beat), আতংক, উদ্বেগ সৃষ্টি, বোধহীনতা (disorientation), শারিরীক সমন্বয়ের অক্ষমতা। আর অনেক সময়ই এর পরপরই দেখা দেয় বিষাদগ্রস্থতা ও ঘুম ঘুম ভাব। [৩] টোবাকোর ধোঁয়ার চেয়ে গাঁজার ধোঁয়ায় ক্যান্সার-সৃষ্টিকারী উপাদান  ৭০-৮০% বেশি  থাকে।
গাঁজার দীর্ঘমেয়াদী (marijuana) ক্ষতিকর প্রভাবঃ
১. সর্দি, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি সাধারণ রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া।
২. সামগ্রিক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাধাওগ্রস্থ হওয়া।
৩. শারিরীক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্থ হওয়া।
৪. দেহে অগঠিত কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি
৫. পুরুষদের যৌন হরমোন কমে যাওয়া।
৬. ফুসফুস তন্তুর ক্ষয় ও ব্রেনের ক্ষতের স্থায়িত্বতা
৭. যৌন ক্ষমতা হ্রাস
৮. পড়াশোনায় অসুবিধা বিশেষ করে স্মরণ শক্তি কমে যাওয়া।
৯. অলসতা, নিদ্রালু ভাব ও কাজের প্রতি অনীহা তোইরী
১০. মেজাজ ও ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন
১১. কোনকিছু বোঝার ক্ষমতা লোপ [৩]
এছাড়াও অ্যালকোহলের মত ক্ষতিকর পানীয় বেশীরভাগ অমুসলিম দেশেই বৈধ। ১৯১৯ থেকে ১৯৩৩ পর্যন্ত আমেরিকায় মদ নিষিদ্ধ ছিল। পরে  গণ-বিক্ষোভের মুখে ১৯৩৩ সালে ১৮তম সংশোধনীর মাধ্যমে এই ক্ষতিকর পানীয়টিকে বৈধ করে দেওয়া হয়! [৪]
 পৃথিবির কোন চিকিৎসা বিজ্ঞানী বলবে না যে গাঁজা বা অ্যালকোহল ক্ষতিকর নয় বরং উপকারি। তবুও মানুষ সাময়িক আনন্দ-বিনোদনের জন্যে এগুলো গ্রহব করছে।
কিন্তু মানুষের স্রষ্টা আল্লাহ জানেন মদ ক্ষতিকর তাই আল্লাহর আইনে এটি নিষিদ্ধ। [সুরা মায়িদা, ৫;৯০]
আর মানুষের জীবণ প্রণালী প্রনয়ণের ভার এমন এক সত্ত্বার উপরই পড়া উচিত যিনি স্বার্থপর নন, হিংসুক নন, যিনি মানুষের চারিত্রিক ও আচরণগত সব বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সম্যক অবহিত এবং যিনি একটি আইনের সত্যিকার সুফল ও প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখেন। 
সূত্রঃ
১. http://www.bbc.co.uk/news/world-latin-america-25331550
২. http://www.sheershanews.com/2013/12/11/16722
৩. http://www.drugfreeworld.org/drugfacts/marijuana/the-harmful-effects.html
৪.  http://en.wikipedia.org/wiki/Alcohol_law#Outright_prohibition_of_alcohol
নির্মাতগাঁজা চাষ, বিক্রি ও সেবন বৈধ
গাঁজা চাষ, বিক্রি ও সেবন বৈধ
গাঁজা চাষ, বিক্রি ও সেবন বৈধ

রবিবার, ৫ জানুয়ারী, ২০১৪

কুর'আনে বিগ ব্যাঙের উল্লেখ; আলি সিনার ব্যর্থ বিতর্ক প্রচেষ্টা

আল কুরআন। সুরা আম্বিয়া (২১:৩০)

أَوَلَمْ يَرَالَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ
 
অর্থ:
অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে, অতঃপর আমি উভয়কে বিচ্ছিন্ন করে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না

বস্তুত এ আয়াতে অতিসংক্ষেপে মহাবিশ্ব সৃষ্টির বর্ণনা দেওয়া আছে। নেটে
ইসলামের অন্যতম কুৎসাকারী আলী সিনার (পাতানো নাম) মতে এখানে বিগব্যাংগ এর কথা খুঁজে পাওয়া নাকি হাস্যকর। তার মতে পৃথিবী সমগ্র মহাবিশ্বের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ। বলা হলো আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী একসাথে মিশে ছিল পরে বিচ্ছিন্ন করা হলো- এ তুলনা কীভাবে হতে পারে? পুরো আকাশমন্ডলীর সাথে পৃথিবীর তুলনা কি করে হয়? যেখানে এক অংশ সুবিশাল এবং অপর অংশ সে তুলনায় অবিবেচ্য।

খন্ডন: 
১.কল্পনা করা যাক, এমন একটা বিশাল দেশ (ধরা যাক ) আছে যেখানে সর্বত্র নৈরাজ্য, হানাহানি, গৃহযুদ্ধ চলছে। পরে এই দেশের একটি ক্ষুদ্র অংশ () নিজেকে স্বাধীন করে ঐ বিশাল অংশ থেকে আলাদা হয়ে গেল। পরবর্তীতে এটা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত হল। কিন্তু বিশাল দেশটির অবশিষ্টাংশ এখনো নৈরাজ্যে ভরপুর। কোন শান্তিকামী মানুষ সেখানে বাস করতে চাইবে না।
এ প্রেক্ষাপট থেকে কি বলা যাবেনা যে
প্রথমে যুক্ত ছিল পরে বিভক্ত হয়ে গেল?
বলা যাবে কারণ ক আয়তনে বড় ঠিকই কিন্তু গুরুত্বে ও তাৎপর্যে বড় হচ্ছে খ। ফলে খ ই বেশি নজরকাড়া ও বিবেচনাপূর্ণ।

এখন পর্যন্ত জানা তথ্য মতে পৃথিবী মহাবিশ্বের একমাত্র বসবাসোপযোগী গ্রহ। সমগ্র মহাবিশ্বের তুলনায় আয়তনে এটা তুচ্ছ বটে তবে সুশৃংখ্যলতা, বসবাসোপযোগীতা ইত্যাদি দিক দিয়ে এটা সমগ্র মহাবিশ্বের চেয়েও বেশি তাৎপর্যের
দাবীদার। 

পৃথিবী এমনই এক ভারসাম্যপূর্ণ স্থানে আছে যদি বুধ বা শুক্রের মত সূর্য্য থেকে আরেকটু কাছে থাকত তবে অত্যাধিক গরমের কারণে আর কিছুটা দূরে হলে মঙ্গলের (ইত্যাদি) মত শীতল হবার কারণে বসবাসোনপযোগী হয়ে পড়ত।

২. মানুষের সকল চিন্তাচেতনার (হোক তা মহাকাশবিজ্ঞান বিষয়ক- সেক্ষেত্রেও নভোচারীরা পৃথিবীকেই তাদের বাড়ী বলে অনুভব করেন।) কেন্দ্র এই পৃথিবী। মানুষের নিত্ত-নৈমিত্তিক আচার-আচরণ (dealings) এক কেন্দ্র করে। 
তাই মহাবিশ্ব আলাদা হয়ে কি তৈরি হল তা সঠিকরূপে বর্ণনা করার ও মানুষের জন্য বোধ্যগম্য করে ( যাতে সহজেই তুলনাটা বোঝা যায়) উপস্হাপনের এটাই সবোৎকৃষ্ট উপায়। 

৩. পৃথিবীকে উল্লেখের আরেকটা কারণ  হতে পারে আমাদের সামনে পৃথিবীর আদি অবস্থা তুলে ধরা। অর্থ্যাৎ এটা কি আগে থেকেই বিচ্ছিন্ন ছিল না এটা অন্য সকল মহাজাগতিক বস্তুর সাথে যুক্ত অবস্থায় ছিল। (পৃথিবী কি দিয়ে তৈরি বা আদি অবস্থায় কি কি পদার্থ দিয়ে তৈরি হয় সেটা এ আয়াতের আলোচ্য বিষয় নয়। সে আলোচনাও যথাস্হানে আছে-৪১:১১)

কুরআনে বৈজ্ঞানিক নিদর্শন উল্লেখের উদ্দেশ্য: মনে রাখতে আল কুরআন মূলত বিজ্ঞানের বই নয়। এটা হলো সব জ্ঞানের বই। এতে আছে আয়াত বা নিদর্শন। এতে মৌলিক পথপ্রদর্শনের পাশাপাশি মানবজীবনের প্রয়োজনীয় সকল জ্ঞানের কথা উল্লেখের মূল উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের গবেষকদের জানিয়ে দেওয়া  যে তুমি যে সত্য এখন জানলে সেটা আমি অনেক আগেই কিতাবে লিখে রেখেছি ( লাওহে মাহফুজে- যেখান থেকে কুরআনকে নাযিল করা হয়)। এবং এভাবে তাকে আল্লাহর অস্তিত্ব, পরকাল ইত্যাদির ব্যাপারে নিশ্চিত বুঝিয়ে দেওয়া যাতে করে সে আত্মসমর্পণ করে (অর্থ্যাৎ মুসলিম হয়ে যায়) ও পরকালে জবাবদিহীতার কথা মনে রেখে অপরাধের পথে পা না বাড়ায়।

বিজ্ঞান মানবজীবনের একমাত্র বিষয়বস্তু, মাপকাঠি বা সিদ্ধান্ত-নির্ণায়ক নয় :  
অনেকে মনে করেন বিজ্ঞানই মানব জীবনের একমাত্র আলোচ্যবস্তু ও মাপকাঠি বা সিদ্ধান্ত-নির্ণায়ক। তাই সবকিছুকে বিজ্ঞানের পাল্লা দিয়ে মেপে দেখতে হবে। ( যেমন করে অনেকে আবার অর্থনীতিকে একমাত্র বিষয়বস্তু বলে ধরে নেয়- কমিউনিস্টরা)। সত্যি কথা হলো মানবজীবনের আলোচ্যবিষয় সমূহের মধ্যে (যেমন সমাজনীতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি) একটা হচ্ছে('one of the' not 'the only') বিজ্ঞান। তাই কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে সকল বিষয়কে মিলিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ আপাতদৃষ্টিতা বিষয়গুলোকে পরস্পর সম্পর্কহীন মনে হলেও এসবগুলোর সমষ্টিই যেহেতু মানবজীবন তাই এদের মধ্যে অবশ্যই আন্ত:সম্পর্ক থাকতেই হবে। 
যেমন- পুরো মানবদেহের অঙ্গগুলো আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কহীন বলে মনে হলেও হাত,পা, অন্ত্র, কিডনি ইত্যাদি গভীরভাবে পরস্পর সম্পর্কিত। 
এ সম্পর্কে ছোটবেলায় আব্বুর বলা একটি কৌতুক মনে পড়ল। একবার নাকি হাত,পা বিদ্রোহ করল যে আমরা এত কষ্ট করে উপার্জন করি- আর পেট ব্যাটা বসে বসে খায়। আমরা কাল থেকে কাজ করবনা। যা ভাবা তাই কাজ। তারা কাজ করলনা। কয়েকদিন পর নিজেরাই দেখল হায়রে কোথায় আগের সেই হৃষ্টপুষ্ট হাত-পা!  তার বদলে এখন যে হাত, পায়ের কোষগুলি শুকিয়ে একবারে মৃতপ্রায়!! পরে বেচারারা আবার কাজ শুরু করল।

বুধবার, ১ জানুয়ারী, ২০১৪

কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা পর্ব-১; সৌরজগতের বাইরে থেকে লোহা প্রেরণ

 আয়াতঃ চলুন কুরআনের সুরা হাদিদের ২৫ নং আয়াতটি নিয়ে বিশ্লেষণ করি। আল্লাহ বলছেন-
"وَأَنزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ "
অর্থঃ আর লোহা নাযিল করেছি যার মধ্যে বিরাট শক্তি এবং মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ রয়েছে। (সুরা আল হাদিদ, ৫৭; ২৫)
বিশ্লেষণঃএখানে 'আনযালনা' শব্দের অর্থ 'নাযিল করা', বা উপর থেকে পাঠানো। রূপক হিসেবে অর্থ ধরলে মনে হবে আল্লাহ মানুষের কল্যাণের জন্য লোহা দান করেছেন । কিন্তু শব্দটিকে আক্ষরিক অর্থে বিবেচনা করলে অর্থ্যাৎ যেভাবে বৃষ্টি ও বিভিন্ন মহাজাগতিক রশ্মি মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে পাঠানো হয় সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে আয়াতাংশটি বিজ্ঞানের অলৌকিকতায় পরিণত হয়।
সিদ্ধান্তঃ লোহা পৃথিবিতে উৎপন্ন হয়নি বরং অন্য কোথাও থেকে এসেছে।

Iron ingot
প্রমাণঃ আধুনিক মহাকাশবিজ্ঞান বলছে যে পৃথিবীতে প্রাপ্ত লোহা মহাকাশের কোন দানব নক্ষত্র থেকে এসেছে। [২] শুধু পৃথিবীরই নয়, সমগ্র সৌরজগতের লোহাই এসেছে মহাকাশ থেকে। কারণ সূর্যের তাপমাত্রা লৌহ উৎপাদনের  জন্য যথেষ্ট নয়। নাসার ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, সূর্যের মজ্জায় (core) তাপমাত্রা ১৫ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস (১.৫ কোটি)। আর সূর্যের ফটোস্ফিয়ারের (photosphere) এর তাপমাত্রা ৫৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। [১]  সূর্যের তুলনায় অনেক বড় নক্ষত্রেই লৌহ উৎপন্ন হতে পারে যেখানে তাপমাত্রা কয়েকশ মিলিয়ন ডিগ্রিতে পৌঁছাতে পারে। যখন কোন নক্ষত্রে লৌহসহ ভারী ধাতুসমূহের পরিমাণ অত্যাধিক হয়ে যায় তখন নক্ষত্রটি এদেরকে আর ধারণ করতে  পারে না। এক সময় এটি বিষ্ফোরিত হয়। একেই বলে নোভা বা সুপারনোভা (আকার আরো বড় হলে)।[৩]
এ ব্যাপারে একটি বৈজ্ঞানিক সূত্র নিম্ন তথ্য দিচ্ছে-
''গভীর সমুদ্রে লোহার আধিক্যকে ৫০ লাখ বছর আগের ৯০ আলোকবর্ষ দূরের একটি সুপারনোভা বিষ্ফোরণের মাধ্যমে ব্যাক্ষা করা হচ্ছে। Iron-60 হলো লোহার একটি তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ। বর্তমানে ভূতাত্ত্বিক স্তরসমূহে এই আইসোটোপটির প্রাচুর্য্য থেকে বোঝা যায় নিকটবর্তী মহাকাশে মৌলসমূহের কেন্দ্রীয় সংশ্লেষণ ( nucleosynthesis) হয়ে ধুলিকণার অংশ হিসেবে  এরা পৃথিবীতে এসে পড়েছে।'' [৪]
ঘোষণাঃ নিশ্চয়ই ৭ম শতকে এ তথ্য পৃথিবীর মানুষের জানা ছিল না। তাহলে মুহাম্মাদ সা. তা কিভাবে জানলেন? সহজ উত্তর আল্লাহই জানিয়েছেন।
পুনশ্চঃ সুরা আল হাদিদ কুরআনের ৫৭তম সুরা। আরবিতে 'আল হাদিদ' শব্দটির সংখ্যাতাত্বিক মানগুলো যোগ করলে ৫৭ হয়। আর হাদিদ শব্দটির সংখ্যাতাত্বিক মান ২৬ যা আয়রনের পারমাণবিক সংখ্যা।
সোর্সঃ
১. http://solarsystem.nasa.gov/planets/profile.cfm?Object=Sun&Display=OverviewLong
২. http://en.wikipedia.org/wiki/Supernova#Source_of_heavy_elements
৩. http://heasarc.gsfc.nasa.gov/docs/objects/snrs/snrstext.html
৪. https://www.americanscientist.org/issues/issue.aspx?id=862&y=0&no=&content=true&page=7&css=print
৫. http://www.miraclesofthequran.com/scientific_30.html

মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৩

বিবর্তনবাদকে গুঁড়িয়ে দেবার জন্যে ক্যামব্রিয়ান যুগই যথেষ্ট

ক্যামব্রিয়ান যুগ হলো সেই ভূতাত্ত্বিক যুগ যখন সব বহুকোষী জীব হঠাৎ আভির্ভূত হয়েছে। এটা এতই আকস্মিক ও ব্যাপক ছিল যে বিজ্ঞানীরা এটাকে বলেন "ক্যামব্রিয়ান বিস্ফোরণ"।
বিবর্তনবাদ অনুসারে জীবন একটা গাছের মত হওয়া উচিত যা একটি মূল থেকে শুরু হয়ে তার শাখাসমূহ ছড়িয়ে দিয়েছে। ডারউইনীও উৎসসমূহে এরই উপর জোর দেয়া হয়েছে এবং "Tree of Life'' বা "জীবন বৃক্ষ'' ধারণাটি প্রায়শই ব্যবহার করা হয়। এ দাবীর সাথে প্রকৃত ঘটনার মিল কতটুকু?
বর্তমানে জানা সব পর্বের প্রাণীই Cambrian Period নামক ভূতাত্বিক যুগে একই সাথে আভির্ভূত হয়েছে। এই যুগটি ৫২০ থেকে ৫৩০  মিলিয়ন বছর পূর্বে ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি বছর জুড়ে বিস্তৃত ছিল।  এ সময়টিতে সব পর্বই পরিপূর্ণ আকৃতিপ্রাপ্ত অবস্থায় দেখা দেয়। ক্যামব্রিয়ান পাথরে পাওয়া জীবাশ্মের মধ্যে জীবনের বিভিন্ন আকৃতি রয়েছে, যেমন শামুক, trilobites, স্পঞ্জ, জেলিফিশ, তারামাছ, সমুদ্র লিলি ও সাঁতারু কাঁকড়া (Swimming Crustaceans) । এ সময়কালের বেশিরভাগ প্রাণিরই বর্তমান নমুনার মতই জটিল তন্ত্র ও উন্নত শারীরতাত্বিক গঠন যেমন চোখ, শ্বাসযন্ত্র (Gill), রক্ত সঞ্চালন ব্যাবস্থা রয়েছে। এই গঠনগুলো খুবই জটিল এবং বেশ ভিন্নপ্রকৃতির। বর্তমান যুগের অনেক প্রাণীর চেয়ে ক্যামব্রিয়ান যুগের জটিল কিছু লাইফ ফর্ম এখনও বিবর্তনবাদীদের হকচকিয়ে দেয়।
বিবর্তনবাদীদের মতে, ক্যামব্রিয়ান যুগে জটিল গঠনাকৃতির জীব আভির্ভূত হতে পারেনি কারণ তাদের মতে জীব জটিল গঠন অর্জন করে ধারাবাহিকভাবে ও দীর্ঘ সময় নিয়ে। অর্থ্যাৎ, তাদের অনুমিত বিবর্তন ইতিহাসের শুরুতে জীবনের অবশ্যই 'আদিম' বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে এবং শুধুমাত্র দীর্ঘ বিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উন্নত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে পারবে। 
কিন্তু জীবনের ইতিহাস সম্পূর্ণ বিপরীত। সর্বপ্রথম লাইফ ফর্মের আজকের মতই জটিল (Complex) অ্যানাটোমিক্যাল বৈশিষ্ট্য ছিল যেমন চোখ, শুঙ্গ (Antenna) , পা, মুখ, পাকস্থলী। অতএব, জটিলতা (Complexity) এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা 'শুরুতেই' দেখা গিয়েছে পরবর্তিতে নয়।
জীবাশ্মবিদ্যার (paleontology) এই বাস্তবতা ও ডারউইনিজমের এই প্রত্যক্ষ অসঙ্গতির বর্নণা দিতে গিয়ে বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিলিপ জনসন বলেন-
" 'ডারউইনীয় তত্ব ধরে নেয় যে 'ক্রমান্বয়ে প্রসারণশীল বৈচিত্র্যের একটি ত্রিভুজের' মধ্য দিয়ে  এক একটি প্রজাতি উঠে আসে। ' এই প্রকল্প মতে, জীবন শুরু হয়েছে প্রথম জীবিত সত্ত্বা বা প্রাণির আদিম প্রজাতি থেকে যা পরে ক্রমান্বয়ে বৈচিত্রময় হয়ে হয়ে জীববিদ্যার শ্রেণিকরণের উচ্চতর শ্রেণীর জন্ম দিয়েছে। কিন্তু প্রাণিদের ফসিল থেকে আমরা দেখি যে এই ত্রিভুজটি আসলে বিপরীত। শুরু থেকেই সব পর্বসমূহ ছিল পরে ধীরে ধীরে সংখ্যা কমেছে।' "
ফিলিপ জনসন যেমনটা বললেন, প্রাণির পর্বসমূহ ধারাবাহিকভাবে বিকশিত না হয়ে একবারে, একইসাথে আভির্ভূত হয়েছে যার অনেকগুলোই পরে বিলুপ্তির শিকার হয়েছে। আর এ ধরণের ভিন্ন ভিন্ন জীবনরূপ আকস্মিক ও নিঁখুতভাবে দেখা দেওয়া থেকে এটাই বোঝা যায় যে এগুলোকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
সব বৈজ্ঞানিক সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে দেখা যায় যে প্রথম জীবিত সত্ত্বাসমূহের জন্ম ও বিকাশ বিবর্তিত হয়ে হয়নি। তারা একে অপর থেকে বিবর্তিত হয়ে বিভিন্ন প্রাণিতে পরিণত হয়নি।
ঐ যুগের Opabinia
ক্যামব্রিয়ান জীবসমূহ কোন পূর্বপূরুষ ছাড়াই হঠাৎ করেই ইতিহাসের মঞ্চে হাজির হয়েছে। প্রাণী জগতের (Animal Kingdom) সব ধরণের মৌলিক কাঠামো ধারণকারী ৫৩০ মিলিয়ন বছর পূর্বের ক্যামব্রিয়ান জীবসমূহ বিবর্তন তত্ত্বকে পুরোপুরি খণ্ডন করে দিচ্ছে। এই বাস্তবতার মোকাবেলায় বিবর্তনবাদ বিদায় নিতে বাধ্য।
উইকিপিডিয়ায় এই ক্যামব্রিয়ান বিস্ফোরণকে বিবর্তনপন্থীরা বিবর্তনবাদের সাথে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে লাইনটিকে 'citation needed' বা 'উদ্ধৃতির অভাব' বলে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে।
ক্যামব্রিয়ান বিস্ফোরণ (Cambrian explosion) সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে ও বিবর্তনবাদ বিরোধী জটিল গঠন বিশিষ্ট প্রানী সমূহের ছবি দেখতে  উইকিপিডিয়ায় দেখুন Cambrian explosion

দানব কচ্ছপের পিঠে পৃথিবীর অবস্থান বর্তমানে যেমন হাস্যকর, আগামী প্রজন্মের কাছে বিবর্তনবাদও তেমনি হাস্যকর ব্যাপারে পরিণত হবে।
সূত্রঃ
১. en.wikipedia.org/wiki/Cambrian‎
২. http://www.ucmp.berkeley.edu/cambrian/cambrian.php
৩. http://en.wikipedia.org/wiki/Cambrian_explosion
৪. http://harunyahya.com/en/Articles/155849/The-Cambrian-Period-Is-Enough-to-Demolish-the-Theory-of-Evolution-

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৩

“সৃষ্টিকর্তাকে/আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন?” – এই প্রশ্নের সরল উত্তর

 “মুক্তমনা” নাস্তিকরা, “ডি-জুস”-কালচারে-বড়-হওয়া নিজের দ্বীন-সম্বন্ধে-একেবারে-অজ্ঞ কোন কিশোর বা তরুণকে যে ক’টি প্রশ্ন করে ভড়কে দেয়, তার একটি হচ্ছে: “সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছেন?” অথচ, একটু চিন্তা করলেই দেখা যাবে যে, এই প্রশ্নটা সেই গ্রাম্য “শঠ-পন্ডিতের” সাথে “সত্যিকার পন্ডিতের” বিতর্কের প্রসিদ্ধ গল্পের মত – যেখানে “শঠ-পন্ডিত” তার প্রতিদ্বন্দিকে জিজ্ঞেস করেছিল: I don’t know – মানে কি?
চলুন দেখি “সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছেন?” এই প্রশ্নের একটা সরল উত্তর ভেবে দেখা যাক:
 এমন সত্তা যিনি সৃষ্ট নন, তিনি অস্তিত্বে আসনে নি বরং সর্বদা অস্তত্বিশীল এবং তিনি সৃষ্টিজগতের স্থান-কাল কাঠামোর অংশ নন ৷ আর এজন্যই তিনি অসৃষ্ট বা অবস্তু, ফলে তাঁর সৃষ্ট হওয়ার প্রয়োজন নেই ৷ এজন্য স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করেছেন, এই প্রশ্নটিই অবান্তর ৷ যেমন একটি ছবি কে এঁকেছে, এর উত্তরে একজন চিত্রশিল্পীর অস্তিত্ব থাকা আবশ্যক, কিন্তু “চিত্রশিল্পীকে কে এঁকেছে?” এই প্রশ্নটি অবান্তর কেননা চিত্রশিল্পীর ক্ষেত্রে “আঁকা” নামক ক্রিয়াটি প্রযোজ্য নয় ৷ তাই চিত্রশিল্পীর অংকিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, অন্য কথায় “অংকিত নয়” এমন একজন অংকনকারী থাকা সম্ভব ৷ একইভাবে “সৃষ্ট নন”, এমন একজন স্রষ্টা থাকা সম্ভব, তাই বার্ট্রান্ড রাসেলের “হু ক্রিয়েটেড গড মাম?” এই প্রশ্ন করা অযৌক্তিক, অবান্তর, বোকামী ৷

আরেকটা উদাহরণ দেয়া যাক ৷ ধরা যাক আপনি অনেক দীর্ঘ একটি তাসের সারির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, আপনি দেখছেন একটি একটি করে তাস পড়ে যাচেছ এবং পড়ে যাওয়ার সময় সে পরের তাসটিকে ধাক্কা দিচ্ছে, ফলে পরের তাসটিও পড়ে যাচেছ, এভাবে একটি তাসের পতনের কারণ হচ্ছে তার পূর্বের তাসটি, তার পতনের কারণ তার পূর্বের তাসটি, তার পতনের কারণ তার পূর্বের তাসটি, এভাবে যেতে থাকলে একটি তাসে গিয়ে আপনাকে থামতেই হবে যেটি প্রথম তাস ৷
এখন যদি প্রশ্ন করা হয় যে, প্রথম তাসের পতনের কারণ কি? উত্তরে বলা যাবে না যে সেটিও একটি তাস, ফলে বুঝতে হবে যে প্রথম তাসের পতনের কারণ এমন কিছু যে নিজে তাস নয় ৷ হয়ত সে একজন মানুষ যে প্রথম তাসটিকে টোকা দিয়েছে ৷ এই মানুষটি যেহেতু তাস নয়, সেজন্য তাসের ক্ষেত্রে যে বৈশিষ্ট্যসূচক প্রশ্ন করা যাবে, এই মানুষের ক্ষেত্রে তা করা যাবে না ৷ যেমন তাসের ক্ষেত্রে প্রশ্ন করা যায় যে “তাসটি কি হরতন না ইস্কাপন?”, কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রশ্নটি অবান্তর ৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও তাসের পতনের পেছনে আদি কারণ হিসেবে মানুষ থাকার বিষয়টি বাস্তব ৷ ঠিক তেমনি স্রষ্টা যেহেতু সৃষ্টি নন কিংবা ফল নন, সেহেতু “তাঁর স্রষ্টা কে?” বা “কারণ কি?” এই প্রশ্নগুলি তাঁর বেলায় প্রযোজ্য নয় – কিন্তু তাঁর থাকার বিষয়টি বাস্তব ৷
এখানে আপাতদৃষ্টিতে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে, যদি স্রষ্টাকে অস্তিত্বে আনার প্রয়োজন নেই বলে ধরে নেই, তবে খোদ মহাবিশ্বের ক্ষেত্রেই একথা ধরে নেই না কেন ? এর কারণ এই যে, মহাবিশ্ব কোন “জ্ঞানসম্পন্ন সত্তা” নয় যে নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, পরিচালনা করতে পারে। বরং মহাবিশ্বের সকল ব্যবস্থা ও সকল অংশ ইংগিত করছে যে, তা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত। এজন্য কোন স্রষ্টা ব্যতীত মহাবিশ্বের স্বয়ংসর্ম্পূণ অস্তিত্বের ধারণা সর্ম্পূণ যুক্তি বিরোধী, তাই এক্ষেত্রে একমাত্র যৌক্তিক সম্ভাবনা হচ্ছে এই যে, এর একজন জ্ঞানী স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রণকারী থাকতে হবে যিনি নিজে সৃষ্ট নন।

শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৩

নিজের মতবাদের দুর্বলতা সম্পর্কে ডারউইনের স্বীকারোক্তি

১৮৫৯ সালে ডারউইন তার The Origin of Species by Means of Natural Selection  বইটি  প্রকাশ করে। তিনি এই বইয়ে বিবর্তনের মাধ্যমে প্রজাতির উৎপত্তির ব্যাখ্যা দিতে চেয়েছিলেন।
Charles Darwinকিন্তু তার বইয়ে বিজ্ঞানসম্মত কোন প্রমাণ উপস্থাপন করার কোন সুযোগ তার ছিল না। তখনো কোষ আবিষ্কৃত হয়নি। সব ধরণের পরীক্ষণ চালাতো হতো আদিম অণুবীক্ষণ যন্ত্রে। প্রকৃতপক্ষেই, এ কারণেই তার পুরো বই জুড়েই পেশাদারিত্বের অভাব লক্ষ করা যায় এছাড়াও এমনসব সিদ্ধান্ত যার ভিত্তি  পরীক্ষণের বদলে ধারণা ও অনুমান।
পরবর্তিতে ডারউইন তার The Descent of Man  বইতেও একই রকম বৈজ্ঞানিক ধারণার অবতারণা করেন। দু’ বইতেই তিনি তার থিওরির দুর্বলতা ও অসংলগ্নতা স্বীকার করে নিয়ে থিওরিটির বাস্তবে সত্যে পরিণত হবার ব্যাপারে বইজুড়ে বার বার  সন্দেহ পোষণ করেন।
ব্রিটিশ শারীরবিদ এইচ এস লিপসন ডারউইনের এ আশঙ্কা সম্পর্কে মন্তব্য করেন-
              “ডারউইনের অরিজিন অব স্পিসিসি পড়ে আমি দেখলাম ডারেইনকে যেভাবে দেখানো হয় তিনি নিজে তার     চেয়ে অনেক কম নিশ্চিত ছিলেন। যেমন,  ‘থিওরির দুর্বলতা’ (Difficulties of the Theory) শীর্ষক অধ্যায়টি লক্ষণীয়   রকম আত্ম-সংশয়ের নিদর্শন। বিশেষ করে,  একজন শারীরতাত্বিক হিসেবে, চোখের উৎপত্তি সম্পর্কে তার মন্তব্য আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।”
ডারউইন এ ধরণের স্বীকারোক্তি আরো দিয়েছেন যেগুলো পরবর্তীতে তার ছেলে ফ্রাঙ্কিস ডারউইন এর সম্পাদনায়  Life and Letters of Charles Darwin নামে সংগৃহীত হয়েছে। ডারউইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও তৎকালীন বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের কাছে লিখিত এসব চিঠি তার থিওরির ব্যাপারে স্বীকারোক্তিতে ভরপুর। সংশ্লিষ্ট জ্ঞানের শাখায় নিজের অজ্ঞতা প্রকাশে তার কোন জড়তা ছিল না।
ডারউইনের বক্তব্যগুলো::
      আমার বইয়ের এই অংশে আসার অনেক আগেই অনেকগুলো দুর্বলতা পাঠকের সামনে আসবে। তাদের কিছু কিছু এতই মারাত্মক যে আমি এগুলো নিয়ে চিন্তা করতেও অস্বস্তিতে পড়ে যাই।
তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিদ্যার প্রফেসর Asa Gray এর কাছে লিখিত চিঠিতে তিনি বলেন
       “আমি ভালো করেই জানি আমার অনুমান সত্যিকার বিজ্ঞানের চৌহদ্দির বেশ বাইরে”
E. Haeckel এর কাছে  লেখা চিঠিতে বলেন-
     “পরবর্তী ধাপসমূহে ‘অপ্রয়োজনীয় কাঠামোর বিলোপ’ বিষয়ক সমস্যাটি কি তোমাকে হতবুদ্ধি করেছে? ...এ সমস্যাটি আমাকে এখনো বিমূঢ় করে রেখেছে।”
তার বন্ধু ও বিজ্ঞানী Sir Joseph Dalton Hooker এর কাছে লিখিত চিঠিতে-
          “মাঝেমাঝেই আমি সন্দেহে পড়ি যে শেষপর্যন্ত আমি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হব।...
    কখনো কখনো আমি কল্পনায় দেখি আমি আমার থিওরির দুর্বলতাগুলো দূর করেছি। কিন্তু ঈশ্বর জানেন, এটা বোধহয় অলীক চিন্তাই। ...”
      ..তুমি বইট সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছো, আর আমি শুধু বলতি পারি আমি আত্মহত্যার জন্যে প্রস্তুত আছি। আমি মনে করতাম এটা ঠিকভাবেই লেখা হয়েছিল, কিন্তু নতুন করে লেখার জন্যে অনেকগুলো অভাব দেখতে পাচিছ। ”
ব্রিটিশ ভূতাত্বিক Charles Lyell এর কাছে লেখায়-
   “এত দূর্বোধ্য সমস্যার আলোচনা করার ভানও আমি করতে পারছি না। সবকিছুর উৎপত্তির রহস্য আমরা সমাধান করতে পারবো না। ”
ডারউইন দেখলেন যে তার থিওরির বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালোভাবে দাঁড়াচ্ছে অবস্থান্তর আকৃতি (transitional forms বা প্রজাতি থেকে প্রজাতিতে রুপান্তরের ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী গঠন) এর অভাব। তাই তিনি ১৮৫৯ সালে তার অরিজিন অব স্পিসিস বইয়ের “থিওরির দুর্বলতা” অধ্যায়ে বলেন-
         ”যদি প্রজাতিসমূহ অচেতন ক্রমবিন্যাসের মাধ্যমে অন্য প্রজাতি থেকেই এসে থাকে, তাহলে কেন আমরা সর্বত্র অসংখ্য অবস্থান্তর আকৃতি দেখি না? ...,যেহেতু এই থিওরির মতে অগণিত অবস্থান্তর আকৃতির অস্তিত্ব থাকা প্রয়োজন, তাহলে কেন আমরা সেগুলোকে অগণিত সংখ্যায় ভূত্বকে খুঁজে পাই না?......কেন তাহলে প্রত্যেক ভূতাত্বিক বিন্যাস (Formation)  ও প্রত্যেক শিলাস্তর এমন মধ্যবর্তী আকৃতিতে (Transitional Form) ভর্তি নয়?......ভূতত্ব নিশ্চিতভাবেই এমন সূক্ষভাবে ক্রমবিকশিত অঙ্গাণু দেখাতে পারেনি এবং এটাই সম্ভবত আমার থিওরির বিরুদ্ধে সবচেয় সুস্পষ্ট  ও জোরালো আপত্তি।”


ইমেইলে গ্রাহক হোন