আলোময়.কম হোম,ইসলাম ও বিজ্ঞান, ফিডব্যাক,অংশ নিন fb page

শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে?-একটি অযৌক্তিক ও অবাস্তব প্রশ্ন

[ফেসবুক থেকে সংগৃহীত]
আমার মহল্লার এক ছেলে।  আমাকে দেখে সেদিন বললো, ভাইয়া আমার একটা কথা আছে, আপনার কি একটু সময় হবে?
বললাম, হ্যাঁ বলো। সে বললো, ভাইয়া এতো দিন তো ধর্ম-কর্ম নামাজ-কালামের ধার দিয়েও হাটতাম না। এখন একটু এ পথে আসার চেষ্টা করছি; অথচ মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন শুধু খোচায়!
বললাম, কী প্রশ্ন বলো। সে বললো, খালি মনে হয় ‘আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে’?
আমি বললাম, কেন অন্য কেউ কি নিজেকে বিশ্বজাহানের স্রষ্টা বলে দাবী করেছে না কি?
সে যেন একটু হকচকিয়ে গেল। বললাম তাহলে সমস্যা কী? অন্য কেউ দাবী করলে না একটা সমস্যা ছিলো। যে দাবী মাত্র একজনই করেছে, কেউ কোনো দিন তাকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখায়নি সেটা নিয়ে তো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়!
একটু থতমত খেয়ে সে বললো, না ভাইয়া! এমন তো না, কিন্তু মনের মধ্যে খালি এই কথা এসে খোচায়!
বললাম, এটা তো কোনো প্রশ্ন নয় এটা শয়তানের একটা শিশুতোষ ধোঁকা! এটা দিয়ে সে কেবল বোকাদেরকেই ঘায়েল করতে পারে। তুমি এতো আধুনিক যুগের বুদ্ধিমান মানুষ হয়ে এতে আক্রান্ত হও কিভাবে?
সে যেন একটু সাহস পেলো, চোখটা চকচক করে উঠলো। বললাম, শোনো, তোমার মনের ঘরে এতো দিন কোনো সম্পদ ছিলো না যে, শয়তান তা চুরি করতে আসবে। এখন সম্ভবত ঈমানের সম্পদ একটু একটু জমা হতে শুরু করেছে। তাই শয়তানের এই হানা, তা চুরি করে নিতে। তুমি সত্যিই আন্তরিকভাবে জানতে ও বুঝতে চাও, নাকি শুধু তর্কের জন্য তর্ক করতে চাও? সে বললো, ছি ভাইয়া! আমি আপনার সাথে তর্ক করবো?
আমি বললাম, তাহলে শোনো, ‘আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে’ প্রশ্ন তো এখানেই শেষ হয়ে যাবে না। এরপর তোমার জানতে হবে, তাকে কে সৃষ্টি করেছে, তারপর তাকে কে? তারপর তাকে কে? তারপর তাকে কে? তাই না?
খানিকটা ভেবে সে বললো, হ্যাঁ, তাই তো! আমি বললাম, ঠিক আছে তুমি এক কাজ করো; এভাবে প্রশ্ন করতে থাকো, তাকে কে সৃষ্টি করেছে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? এভাবে প্রশ্ন করতে থাকো। তারপর যেখানে গিয়ে তুমি ঠেকে যাবে, যে আর পিছনে কেউ নেই, তারপর আমি জবাব দেবো যে, তাকে সৃষ্টি করেছে। সে একটু মাথা চুলকিয়ে বললো, হ্যাঁ, ভাইয়া।

বললাম, ঠিক আছে আগে তোমার প্রশ্ন আগে শেষ করো। এক কাজ করো তুমি। তুমি প্রশ্ন করতে থাকো, আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? তাকে কে সৃষ্টি করেছে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে? তাকে কে?............ এভাবে প্রশ্ন করতে থাকো.........। আমি একটু বাজার করে আসি। তুমি যেখানে গিয়ে দেখবে যে আর পিছনে কেউ নেই সেখানে দাঁড়িয়ে যাবে। তারপর আমি দলীল প্রমাণ সহ সেই সত্ত্বাকে চিনিয়ে দেবো। ঠিক আছে?

সে সম্ভবত কিছু বুঝে না উঠতে পেরে বললো, ঠিক আছে ভাইয়া।

আমি বাজার থেকে ফিরে এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, কী খবর, শেষ পেয়েছো? সে অসহায়ের মতো বললো, না ভাইয়া, এ প্রশ্নের তো কোনো শেষ নেই?

বললাম, তুমি একটু গভীরভাবে ভেবে দেখো, তাহলেই বুঝতে পারবে যে, সকল কিছুর অস্তিত্বের জন্য এমন একজন থাকা চাই যাকে কেউ অস্তিত্ব দেয়নি, যাকে কেউ সৃষ্টি করেনি। যিনি চিরঞ্জীব চিরস্থায়ী; চিরকাল ছিলেন, চিরকাল থাকবেন। যিনি অনন্ত অসীম; যিনি প্রথম যিনি শেষ।

ছেলেটা আবেগে কাঁদো কাঁদো হয়ে বললো, জি ভাইয়া বুঝতে পেরেছি।

আমি বললাম, আসলে যার কোনো স্রষ্টা আছে সে তো সৃষ্টি। যার অস্তিত্বের জন্য স্রষ্টা প্রয়োজন সে তো স্রষ্টা হতে পারে না। স্রষ্টা আর সৃষ্টির মৌলিক একটা পার্থক্যই তো এইটা।

তাছাড়া ‘আল্লাহর স্রষ্টা কে’ এ প্রশ্নের যেহেতু কোনো শেষ নেই, তাই আসলে এটা কোনো প্রশ্নই নয়; বরং এটা হলো নিছক শয়তানের কুমন্ত্রণা। যখনই তোমার মনে শয়তান এমন কুমন্ত্রণা দেবে সাথে সাথে আল্লাহর কাছে আশ্রয় কামনা করবে। পড়বে, আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্ব-নির রজীম। পড়বে, রব্বী আউযুবিকা মিন হামাযাতিশ শাইয়াইত্বীন, ওয়া আউযুবিকা রব্বী আই ইয়াহ্‌দুরূন। সূরা ইখলাস পাঠ করবে। আল্লাহ এবং তাঁর রসূল (সা.) আমাদেরকে এ কুমন্ত্রণা থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে এ ধরণের উপদেশই দিয়েছেন।

সব শেষে সে বললো, ঠিকই বলেছেন ভাইয়া। শয়তান আর এই ফালতু প্রশ্ন নিয়ে আমার চিন্তার ত্রিসীমানায়ও আসতে পারবে না।

আল্লাহ আমাদের সকলকে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে হেফাজত করুন!

ইমেইলে গ্রাহক হোন